নীল জলে ভাসছে 'নীরব ঘাতক'!
নীল জলে ভাসছে 'নীরব ঘাতক'! জাহাজের ভুলেই কি গোরস্থানে পরিণত হচ্ছে সমুদ্র?
নিজস্ব প্রতিবেদক | বঙ্গদর্শন ডেস্ক
নীল জলরাশির অতল গহ্বরে এখন আর কেবল মুক্তো কিংবা প্রবাল ভাসে না, ভাসে মৃত্যুর পরোয়ানা! অবাক লাগলেও সত্যি, বাণিজ্যের নামে চলাচল করা জাহাজের ভুলেই মহাসাগরগুলো ক্রমেই পরিণত হচ্ছে প্লাস্টিকের এক বিশাল ভাগাড়ে। ২ থেকে ৫ মিলিমিটারের এই ছোট্ট দানবগুলো, যাদের বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'পেলিয়েট', এখন সামুদ্রিক প্রাণীদের কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছে এক নিশ্চিত মারণফাঁদ। মাছ থেকে শুরু করে কচ্ছপ কিংবা সামুদ্রিক পাখি—খাবার ভেবে এই প্লাস্টিক দানা গিলে খাচ্ছে তারা, আর ডেকে আনছে করুণ মৃত্যু। বিজ্ঞানী জেনিফার ল্যাভার্সের দেওয়া তথ্য শুনলে শিউরে উঠতে হয়, "কোথাও কোথাও ১০০ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণীর দেহেই মিলছে এই প্লাস্টিকের বিষ!"
🌊 ধ্বংসের খতিয়ান ও আড়ালের ফ্যাক্ট:
২০২১ সালে শ্রীলঙ্কা উপকূলে 'এক্স-প্রেস পার্ল' জাহাজের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা মনে আছে? সেই এক ভুলে সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছিল টন টন প্লাস্টিক দানা ও রাসায়নিক। পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৬৪০ কোটি ডলার! শ্রীলঙ্কার সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিসের চেয়ারম্যান হেমান্থ উইথানেজ স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই ক্ষতি তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘস্থায়ী। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক কনভেনশন 'মারপোল' অনুযায়ী সমুদ্রে ইচ্ছাকৃত প্লাস্টিক ফেলা নিষিদ্ধ হলেও, এমন 'দুর্ঘটনাবশত' দানা ছড়িয়ে পড়ার কোনো কঠোর আইন নেই। তাই বাধ্য হয়েই বিজ্ঞানী থেরেসা কার্লসনসহ গবেষকরা প্লাস্টিক দানাকে একটি নির্দিষ্ট ইউএন (UN) নম্বরের আওতায় এনে এর প্যাকেজিং ও পরিবহনে কড়া পাহারার দাবি তুলেছেন।
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
উন্নয়ন আর বাণিজ্যের নামে প্রকৃতির বুকে এই নীরব হত্যাযজ্ঞ আর কতদিন চলবে? আন্তর্জাতিক আইনগুলো কি কেবলই কাগুজে বাঘ হয়ে থাকবে, নাকি সমুদ্রের নীল জল রক্ষায় সত্যিই কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে বিশ্বনেতারা? আপনার কী মনে হয়?
Generate Social Media Card