জামায়াতের সাথে আর কতদিনের 'হানিমুন' এনসিপির?
জামায়াতের সাথে আর কতদিনের 'হানিমুন'? এনসিপির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তুমুল ঝড়, স্পিকটি নট শীর্ষ নেতৃত্ব!
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, বাংলাদেশ
বাংলামোটরের অস্থায়ী কার্যালয়। শুক্রবার দুপুর ১২টা গড়িয়ে বিকেল, তারপর সন্ধ্যা। ঘড়ির কাঁটা ধরে টানা পাঁচ ঘণ্টা চলল ম্যারাথন সাধারণ সভা। বাইরে থেকে সব শান্ত মনে হলেও, ভেতরে বইছিল রীতিমতো কালবৈশাখী! জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র এই সভায় এদিন শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে ধেয়ে এল একের পর এক বাউন্সার। মূল প্রশ্ন একটাই— জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নৌকায় আর কতদিন ভাসবে এনসিপি?
🔥 তোপের মুখে নাহিদ-আখতার:
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার (নিভা) ছিলেন পুরো ফর্মে। তাঁদের সোজাসাপ্টা প্রশ্নের সামনে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। 'জোট আর কতদিন থাকবে?'— এমন বিস্ফোরক প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তরই দিতে পারেননি তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শীর্ষ নেতারা শুধু বলেছেন, "মাত্রই সংসদ গঠিত হলো, এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকায় গেল, সামনে সংসদ অধিবেশন..."
বিদ্রোহের সুর কি তবে আগে থেকেই ছিল? সভায় দলের এক নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, কেন সামান্তা ও নাহিদারা এখনো জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন? সামান্তার জবাব ছিল তীক্ষ্ণ তিরের মতো। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে জোট বাঁধার সময়ই তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন— এই জোটে গেলে তাঁরা নির্বাচন তো করবেনই না, উল্টো জোটের বিরুদ্ধে সরব থাকবেন।
📊 ক্ষোভের খতিয়ান ও হিসাব-নিকাশ:
- বৈষম্যের অভিযোগ: ১১–দলীয় ঐক্যে এনসিপির যে ৩০ জন প্রার্থী ছিলেন, তাঁদের সবাইকে জামায়াত সমান চোখে দেখেনি বা সমপরিমাণ সহযোগিতা করেনি বলেও সভায় অভিযোগ উঠেছে।
- নীতি বদল নিয়ে প্রশ্ন: সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল ৩০০ আসনে একাকী লড়বে দল। কিন্তু পরে নির্বাহী কমিটিতে আলোচনা করে জামায়াতের হাত কেন ধরা হলো? এর জবাবে নেতারা জানান, আলাদা সাধারণ সভা না হলেও অনেকেই জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে 'ব্যক্তিগতভাবে' সম্মতি দিয়েছিলেন!
- অভিমানীদের ফেরা: জামায়াত-সখ্যের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দল ছেড়েছেন অন্তত ১৭ জন নেতা। তাঁদের ফেরানোর কোনো উদ্যোগ কি আছে? শীর্ষ নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেই, তবে কেউ নিজে থেকে ফিরতে চাইলে দরজা খোলা।
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
৩০০ আসনে একলা চলার হুংকার থেকে জামায়াতের জোটে আশ্রয়— এনসিপির এই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কি দলটির দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে? আপনারা কী ভাবছেন?
বঙ্গদর্শন
খবর যেখানে কথা বলে
"আমরা খবর পড়িনা, শুনিনা, আমরা খবর বানাই।"
ভিজিট করুন: bongodarshan.com
Generate Social Media Card