টেকেরহাট ব্রিজের অন্ধ নুন্নু বেগমের মুখে হাসি!
টেকেরহাট ব্রিজের অন্ধ নুন্নু বেগমের মুখে হাসি! মুকসুদপুরে ইফতার হাতে মানবতার ফেরিওয়ালা
নিজস্ব প্রতিবেদক | গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ
অন্ধকার এক জীবনে হঠাৎ এক চিলতে আলোর ঝলকানি! টেকেরহাট ব্রিজের ওপর বসে যে বৃদ্ধা প্রতিদিন ভিক্ষার থালা পাতেন, সেই নুন্নু বেগমের চোখে আজ আনন্দের জল। কারণ, পবিত্র রমজানের আগেই তাঁর জীর্ণ কুটিরে পৌঁছে গেছে ভালোবাসার ইফতার। শুধু নুন্নু বেগমই নন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের প্রায় দেড়শটি হতদরিদ্র পরিবারের গল্পটা আজ এমনই স্বস্তির।
শুক্রবার ও শনিবার—এই দুই দিন ধরে মুকসুদপুরের বাতাসে যেন কেবলই মানবতার সুবাস। 'চরপ্রসন্নদী সমাজকল্যাণ সংস্থা'-এর একঝাঁক তরুণ, দেশি ও প্রবাসী স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত উদ্যোগে বিতরণ করা হয়েছে এই ইফতার সামগ্রী। খেজুর, চিড়া, মুড়ি, চিনি, ছোলা থেকে শুরু করে প্রাণ জুড়ানো ট্যাং—কী নেই সেই ভালোবাসার প্যাকেটে!
✨ যাদের শ্রমে ফুটলো হাসি:
এই মহৎ উদ্যোগের নেপথ্যে ছিলেন চরপ্রসন্নদী সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোক্তা মাসুদুর রহমান, সালাউদ্দিন শেখ, বিপ্লব খানসহ আরও অনেকেই। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা থাকলে সমাজের অন্ধকার দূর করা সম্ভব।
দীর্ঘদিন রোগে ভুগে ঘরে পড়ে থাকা ভ্যানচালক আবজাল হোসেন কিংবা তুলার কলের স্বল্প বেতনের শ্রমিক জেসমিন—সবার কণ্ঠেই আজ স্বস্তির সুর। জেসমিনের ভাষায়, "অল্প টাকা মজুরিতে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। এলাকার ভাইরা যা দিল, বেশ কয়েকদিন সেহরি ও ইফতার নিশ্চিন্তে করতে পারবো।"
🗣️ উদ্যোক্তার কথা:
সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা মাসুদুর রহমান দৃঢ়কণ্ঠে জানালেন, "দেশি-প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সারাবছরই যেকোনো সংকটে আমরা এই মানুষগুলোর পাশে থাকতে চাই। সমাজে ভালো কাজে আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
চরপ্রসন্নদী সমাজকল্যাণ সংস্থার এই তরুণদের মতো দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যদি এমন 'মানবতার ফেরিওয়ালা' তৈরি হয়, তবে কি আমাদের সমাজটা আরও একটু সুন্দর হতে পারে না? আপনার কী মনে হয়?
বঙ্গদর্শন
খবর যেখানে কথা বলে
"আমরা খবর পড়িনা, শুনিনা, আমরা খবর বানাই।"
ভিজিট করুন: bongodarshan.com
Generate Social Media Card