কংক্রিট নয়, বাঁশ-কাগজেই গড়া ভালোবাসার বেদি! পদ্মার চরে খুদে শিক্ষার্থীদের অনন্য একুশ উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঈশ্বরদী (পাবনা), বাংলাদেশ
শহর থেকে বহু দূরে, যেখানে নাগরিক কোলাহল পৌঁছায় না, সেখানেও সমানতালে স্পন্দিত হয় একুশের চেতনা। পাবনার ঈশ্বরদী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মার চরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম চরকুড়ুলিয়া। এখানকার 'সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন'-এর খুদে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো ইট-পাথরের শহীদ মিনার ছিল না। কিন্তু ভাষা শহীদদের প্রতি বুকভরা ভালোবাসা কি আর ইটের অভাব মেনে নেয়? তাই তো বাঁশ, কাঠ আর রঙিন কাগজ দিয়ে নিজেরাই তারা গড়ে তুলেছে এক অনন্য শ্রদ্ধার বেদি!
🌸 শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি:
গত দুই দিন ধরে নিজেদের হাতে বাঁশ ও কাগজ কেটে এই মিনার তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা। বেদির সামনে কাগজের ওপর ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে পরম মমতায় লেখা হয়েছে '২১শে ফেব্রুয়ারি'। আজ সকাল ৮টায় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...' গাইতে গাইতে প্রভাতফেরির মাধ্যমে নিজেদের গড়া সেই মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় তারা। সন্তানদের সাথে গলা মিলিয়েছেন অভিভাবকেরাও।
নিজেদের হাতে গড়া শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরে খুদে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে এখন বাঁধভাঙা আনন্দ। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র উল্লাস উদ্দিন আবেগময় কণ্ঠে বলে, "বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার না থাকায় আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম না। এবার স্যার-ম্যাডামদের অনুমতি নিয়ে আমরা নিজেরাই বাঁশ আর কাঠ দিয়ে এটা বানিয়েছি। আজ আমরা সবাই খুব আনন্দিত।"
একই সুর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা রহমানের কণ্ঠেও। সে জানায়, "দুদিন ধরে আমরা এই শহীদ মিনার তৈরি করেছি। আজ নিজেদের তৈরি মিনারে ফুল দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।"
ভাষার প্রতি অকৃত্রিম টান:
বিদ্যালয়টির পরিচালক সেলিম রেজা জানান, চরাঞ্চলের শিশুদের স্কুলমুখী করতেই এলাকার বিদ্যোৎসাহী মানুষদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। আজ এই তিন শতাধিক খুদে শিক্ষার্থীর নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা শহীদ মিনার যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ভাষার প্রতি ভালোবাসা কোনো স্থায়ী কাঠামোর ওপর নির্ভর করে না, তা বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীরে।
Generate Social Media Card